ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) টিউলিপ সিদ্দিককে বাংলাদেশের একটি প্লট দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার একটি আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। পূর্বাচলে তাঁর মা শেখ রেহানার নামে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সোমবার (১ ডিসেম্বর, ২০২৫) ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে টিউলিপের মা শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং তাঁর খালা, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আসামিদেরও ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য রায়।
এই রায়ের মাধ্যমে শেখ রেহানার প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত অনিয়মের মামলায় আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত হলো।
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে এই রায়ের বিষয়টি এমন এক সময়ে এল যখন তিনি বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
গত জানুয়ারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই টিউলিপ সিদ্দিক পদত্যাগ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এক ডেভেলপারের কাছ থেকে লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট 'উপহার' হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
গত জানুয়ারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই টিউলিপ সিদ্দিক পদত্যাগ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এক ডেভেলপারের কাছ থেকে লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট 'উপহার' হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগেও তাঁর নাম জড়িয়েছি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করে জানিয়েছিল, টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সালে তাঁর মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া গুলশানের একটি ফ্ল্যাট তাঁর বোন রূপন্তীকে হস্তান্তর করার সময় যে নোটারি ব্যবহার করেন, তা 'ভুয়া' প্রমাণিত হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করে জানিয়েছিল, টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সালে তাঁর মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া গুলশানের একটি ফ্ল্যাট তাঁর বোন রূপন্তীকে হস্তান্তর করার সময় যে নোটারি ব্যবহার করেন, তা 'ভুয়া' প্রমাণিত হয়েছে।
গত এপ্রিলে টিউলিপের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর আইনজীবীরা অভিযোগ করেছিলেন যে, দুদক 'প্রামাণিক নথির ভিত্তিতে' তদন্তের কথা বললেও কোনো নথি উপস্থাপন করেনি এবং যোগাযোগের চেষ্টায়ও সাড়া দেয়নি। এতে টিউলিপের 'ন্যায়বিচারের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত' হয়েছে। তবে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন তখন বলেছিলেন, টিউলিপ নির্দোষ হলে কেন তিনি সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।
উল্লেখ্য, টিউলিপের খালা শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির অন্য তিনটি মামলায় গত বৃহস্পতিবার অন্য একটি আদালত শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির আরও দুটো মামলা বর্তমানে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ওই মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা ও টিউলিপের পাশাপাশি টিউলিপের ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও আসামি হিসেবে অভিযুক্ত।