ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (IDF) তাদের সেনাদের অনলাইন কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)–চালিত নজরদারি সিস্টেম, যার নাম 'মরফিয়াস' (Morpheus), মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিস্টেমটি সেনাদের প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট—তা টেক্সট, ছবি বা ভিডিও যাই হোক না কেন—তা রিয়েল টাইমে বিশ্লেষণ করবে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো সৈন্যদের মাধ্যমে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য ফাঁস হওয়া বা সামরিক ঘাঁটির অবস্থান, অস্ত্র অথবা মোতায়েন সংক্রান্ত গোপন তথ্য প্রকাশ বন্ধ করা। আর্মি রেডিওর তথ্য অনুযায়ী, এটি যেকোনো "ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রাসঙ্গিক" পোস্ট শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা দেবে এবং প্রয়োজনে তথ্য নিরাপত্তা বিভাগ সরাসরি ফোন করে হস্তক্ষেপ করবে।
সেনাবাহিনী মনে করছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গোপন তথ্য ফাঁস হওয়া রোধ করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। মরফিয়াস সিস্টেমটি মূলত কাজ করবে তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি স্বয়ংক্রিয় ঢাল হিসেবে।
নতুন 'মরফিয়াস' সিস্টেমের মাধ্যমে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এখন নিয়মিত সৈন্যদের পাবলিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিস্টেমটি দ্রুত পোস্ট বিশ্লেষণ করবে, যাতে সামরিক ঘাঁটির অবস্থান, ক্লাসিফায়েড অস্ত্রশস্ত্র বা কৌশলগত মোতায়েন সংক্রান্ত কোনো তথ্য অনিচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁস না হয়।
যদি কোনো সেনার পোস্টে সামরিক নিয়ম লঙ্ঘিত হয়, তাহলে সেই সেনার কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সতর্কবার্তা যাবে এবং পোস্টটি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হবে। আরও গুরুতর ক্ষেত্রে, তথ্য নিরাপত্তা বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সেনার সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদ্ধতিটি কেবল তথ্য ফাঁস বন্ধ করবে না, বরং সৈন্যদের মধ্যে অনলাইন কার্যক্রমে আরও বেশি সতর্ক থাকার প্রবণতা তৈরি করবে।
এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সিস্টেমটি পুরোপুরি চালু করার আগে একটি ব্যাপক পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালানো হয়। কয়েক মাস ধরে প্রায় ৪৫,০০০ সেনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে 'মরফিয়াস'। এই পরীক্ষামূলক সময়েই হাজারের বেশি এমন পোস্ট শনাক্ত করা হয়, যা সামরিক নিরাপত্তা নীতি লঙ্ঘন করছিল এবং যার জন্য তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করে পোস্টগুলো মুছে ফেলতে বাধ্য করেন।
প্রাথমিক সাফল্যের পর, আইনি অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই সিস্টেমটি পুরোপুরি কার্যকর করার পরিকল্পনা করেছে IDF। যদিও সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে এই নজরদারি ব্যবস্থা সৈন্যদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমা লঙ্ঘন করে, তবুও সংবেদনশীল সামরিক তথ্য সুরক্ষার জন্য এটি একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।