মিশর সম্প্রতি ফ্রান্সের কাছ থেকে তাদের বহরে আরও তিনটি নতুন রাফালে যুদ্ধবিমান যুক্ত করেছে। EM12, EM13 এবং EM14 নম্বরযুক্ত এই বিমানগুলো মিশরের ক্রমবর্ধমান বিমান বহরের নতুন সংযোজন। মূলত মিশর ২০২১ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে মোট ৩০টি রাফালে যুদ্ধবিমান সংগ্রহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। যদিও এই রাফালে বিমানগুলো উন্নত যুদ্ধক্ষমতা, শক্তিশালী রাডার এবং বহুমুখী হামলা চালানোর সক্ষমতা বজায় রেখেছে, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইসরায়েলের আপত্তির কারণে এগুলোতে Meteor BVR (Beyond-Visual-Range) মিসাইল সংযোজন করা যাচ্ছে না। এই নতুন বিমানগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মিশরের সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই নতুন রাফালে বিমানগুলোর আগমন মিশরের কৌশলগত প্রতিরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
২০২১ সালের চুক্তির অংশ হিসেবে মিশর ধীরে ধীরে তার ৩০টি রাফালে যুদ্ধবিমানের বহর সম্পন্ন করছে। রাফালে বিমানগুলো অত্যাধুনিক এভিয়োনিক্স, শক্তিশালী রাডার সিস্টেম এবং বহুমুখী হামলা পরিচালনার ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এই বিমানগুলো মিশরীয় বিমান বাহিনীকে (EAF) আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেবে। যদিও রাফালে বিমান অত্যন্ত উন্নত, তবে এর পূর্ণাঙ্গ বিধ্বংসী ক্ষমতা কিছুটা সীমাবদ্ধ হচ্ছে ইসরায়েলের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে।
রাফালে যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো Meteor BVR ক্ষেপণাস্ত্র, যা দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে ইসরায়েলের আপত্তির কারণে ফ্রান্স মিশরকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিসাইলটি সরবরাহ করতে পারছে না। ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ ছিল যে এই ধরনের উচ্চ-প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র মিশরের হাতে গেলে তাদের কৌশলগত সামরিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। Meteor মিসাইল যুক্ত না হলেও, নতুন রাফালে বিমানগুলো তাদের শক্তিশালী রাডার এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে মিশরের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।