যুক্তরাষ্ট্রের প্রণীত বলে দাবি করা এক শান্তি-পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ্যে আসার পর মস্কো জানিয়েছে, তাদের কাছে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। তবুও ক্রেমলিনের অবস্থান—ইউক্রেনের উচিত এখনই সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়া। খসড়াটি এমন এক সময় সামনে আসে, যখন পেন্টাগনের একটি প্রতিনিধি দল কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছে।
একইদিন রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামরিক পোশাক পরে সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে। তিনি জানান, “বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনই এখন রাশিয়ার প্রধান কাজ।” রুশ দৈনিক ইজভেস্তিয়া পুতিনের ঘাঁটি সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে শক্ত বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ফাঁস হওয়া ২৮ দফার প্রস্তাবে বলা হয়—ইউক্রেন ডনবাসের কিছু অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেবে, দেশের সামরিক বাহিনী ছোট করা হবে এবং ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসে পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর, যেখানে তিনি মিয়ামিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তিন দিন আলোচনা করেন।
প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না করলেও, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রুশ বাহিনীর অগ্রগতি দেখে জেলেনস্কির বোঝা উচিত—এখনই চুক্তি করা তার জন্য ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তবে পরিকল্পনার সব অংশ রাশিয়ার পক্ষে সুবিধাজনক নয় বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনকে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫–এর ধাঁচে একটি নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেওয়া হতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসনের ক্ষেত্রে পশ্চিমা সামরিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করবে। রুশ সংবাদমাধ্যম মস্কভস্কি কোমসোমোলেটস একে বলেছে—“ঘাঁটি ছাড়া ন্যাটো সদস্যপদ”।
যুদ্ধের চার বছর পর রাশিয়াও চাপে রয়েছে। সেনাবাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, দুর্বল অর্থনীতি, বাজেট ঘাটতির বৃদ্ধি এবং তেল–গ্যাস আয় কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। নেজাভিসিমায়া গাজেতা লিখেছে, রাশিয়ার শিল্প এখন “স্থবিরতা ও পতনের মাঝামাঝি” অবস্থায় রয়েছে।