ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে বাংলাদেশের নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর করতে রাষ্ট্রের সব অংশীকেই সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাঁর মতে, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীকে দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই “নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা” বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
অধ্যাপক ইউনূস সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সম্মিলিত নেতৃত্ব ও ত্যাগের মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়। ২১ নভেম্বরকে তাই সামরিক ঐতিহ্যের গৌরবময় দিন হিসেবে পালন করা হয়। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ২৫ মার্চের ভয়াল রাত থেকেই বীর সেনারা জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতার লড়াই শুরু করেছিলেন, যা বিজয় অর্জিত না হলে তাদের ও পরিবারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারত।
দেশ গঠন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনকল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাহিনী জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান এবং চলমান পুনর্গঠন পর্বেও সশস্ত্র বাহিনী জনগণের আস্থার জায়গা ধরে রেখেছে। তাঁর প্রত্যাশা, বাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ এবং সব বন্ধুসুলভ রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তবে যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসন থেকে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি সংযোজন এবং উন্নত প্রশিক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের।