শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী মামলার রায় সোমবার, নারী হিসেবে সহানুভূতি পাবেন না শেখ হাসিনা: প্রসিকিউটর তামিম

আপলোড সময় : ১৬-১১-২০২৫ ১০:৪২:২২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-১১-২০২৫ ১০:৪২:২২ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে নারী হিসেবে কোনো অনুকম্পা বা ছাড় দেওয়া হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর)।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর)। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। একই সঙ্গে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় স্ক্রিনে রায় দেখানো হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজ থেকেও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে এই মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশি সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এদের মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা শুরু হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

প্রাথমিকভাবে মামলায় শেখ হাসিনা একমাত্র আসামি ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশন সাবেক আইজিপি মামুনকে আসামি করার আবেদন করেন এবং ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে ১২ মে জমা হয়। ১ জুন তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:

  > ১৪ জুলাই গণভবনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া,

  > হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ক্ষতি করার নির্দেশ,

  > রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা,

  > রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা,

  > আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গ্রেপ্তারকৃত একমাত্র আসামি। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিন সাবেক আইজিপি মামুন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার আবেদন করেছিলেন।

যুক্তিতর্ক শুরু হয় ১২ অক্টোবর এবং শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের খালাসের আবেদন করেন। রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনের আইনজীবীও খালাসের আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল ২৩ অক্টোবর রায় ঘোষণার তারিখ জানাতে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নেন।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]