শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন হত্যায় দুই শুটারসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার, মূল পরিকল্পনাকারী রনি পলাতক

আপলোড সময় : ১২-১১-২০২৫ ০৫:৪৮:৩২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-১১-২০২৫ ০৫:৪৮:৩২ অপরাহ্ন
রাজধানীর পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই শুটারসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শুটার ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক, রবিন, ইউসুফ, রুবেল ও শামীম। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রনি এখনো পলাতক।
 
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত জুটি ইমন-মামুনের পুরোনো দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। ইমনের পক্ষে থেকে রনি পরিকল্পনা করেন মামুনকে হত্যার। এজন্য তিনি ২ লাখ টাকা দেন এবং অস্ত্র সরবরাহ করেন। হত্যার উদ্দেশ্য ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্য বিস্তার।
 
বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, “গ্রেপ্তার ফারুক ও রবিন পেশাদার শুটার। তাঁদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, নগদ টাকা এবং হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।”
 
ডিবির তদন্তে জানা গেছে, ১০ নভেম্বর সকালে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মামুনের ওপর গুলি চালায় দুই অস্ত্রধারী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতায় সিলেট, নরসিংদী ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
মঙ্গলবার রাতে নরসিংদীর ভেলানগর এলাকা থেকে ফারুক, রবিন, রুবেল ও শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা—যা হত্যার পারিশ্রমিক হিসেবে রনি দিয়েছিলেন। পরে রনির নির্দেশে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো রুবেল ইউসুফের বাসায় লুকিয়ে রাখেন, সেখান থেকে দুটি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
 
তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, মামুন হত্যার পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। আদালতে হাজিরার দিনকে লক্ষ্য করে রনি হত্যার নির্দেশ দেন। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী রবিন ও ফারুক গুলি চালান, এরপর তারা রনির কাছে ফিরে অস্ত্র জমা দেন এবং পারিশ্রমিক নেন। পরে তাঁরা সিলেটে পালিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন এবং পথে ডিবির হাতে ধরা পড়েন।
 
ডিবির কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অংশ। মামুন ও ইমন দুইজনই শীর্ষ সন্ত্রাসী। মূল পরিকল্পনাকারী রনি ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]