মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান যে বিমান ঘাঁটিতে অবস্থান করে, সেই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে রহস্যজনক এক প্যাকেট পৌঁছানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সাদা পাউডার ভর্তি সেই প্যাকেট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ঘাঁটির সাতজন কর্মী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে কঠোর নিরাপত্তার এই ঘাঁটিতে অজানা উৎসের প্যাকেট কীভাবে প্রবেশ করল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ব্যাপক তদন্ত। ঘটনাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশনস (ওএসআই)।
ঘাঁটির কর্মকর্তারা জানান, প্যাকেটের ভেতরে সাদা পাউডার পাওয়া যায়, যা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের বিমান ঘাঁটির ম্যালকম গ্রোভ মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। ঘটনার পর পুরো ঘাঁটি সাময়িকভাবে খালি করে দেওয়া হয় এবং বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
সন্দেহজনক প্যাকেটটি হস্তান্তর করা হয় হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়ালস টিমের (HazMat) হাতে। প্রাথমিক পরীক্ষায় বিপজ্জনক কোনো রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়, যদিও বিস্তারিত পরীক্ষার ফল এখনো পাওয়া যায়নি। এক কর্মকর্তা বলেন, “এখন পর্যন্ত ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি, তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”
ঘটনার পর পুরো ঘাঁটি স্যানিটাইজ করা হয় এবং শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কেবল অনুমোদিত কর্মীদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
মেরিল্যান্ডের প্রিন্স জর্জেস কাউন্টিতে অবস্থিত জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা। এখান থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা বিদেশ সফরে রওনা হন। তাই এত উচ্চ নিরাপত্তার ঘাঁটিতে এই অস্বাভাবিক ঘটনার পর মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনাটিকে “উচ্চ অগ্রাধিকার” তদন্ত হিসেবে বিবেচনা করছে।