ইরানের বিমান শিল্পে নতুন এক মাইলফলক যোগ হয়েছে। দেশটির সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পরিবহন বিমান ‘সিমোর্গ’ প্রথমবারের মতো সফল পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করেছে। সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উড়ানটি বিমানটির এয়ারওয়ার্দিনেস সার্টিফিকেশন বা নিরাপদ উড্ডয়ন যোগ্যতার চূড়ান্ত মূল্যায়নের পথ উন্মুক্ত করেছে।
ইসফাহান প্রদেশের শাহীন শহরে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষামূলক ফ্লাইটকে ইরানের বিমান শিল্পে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় দেড় দশকের ধারাবাহিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ফল এই প্রকল্পটি, যা ইরানের বিমান নকশা ও উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
বিমানটি তৈরি করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের ইরান এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (HESA)। শক্তিশালী যমজ ইঞ্জিনচালিত এই বিমানটির সর্বোচ্চ টেকঅফ ওজন ২১ হাজার ৫০০ কিলোগ্রাম এবং এটি ৬ হাজার কিলোগ্রাম পর্যন্ত পণ্য বহনে সক্ষম। এর কার্যক্ষম পাল্লা প্রায় ৩,৯০০ কিলোমিটার। দ্রুত মালপত্র ওঠানামার জন্য থাকা পিছনের লোডিং র্যাম্প সিমোর্গকে লজিস্টিক, মানবিক ত্রাণ ও আঞ্চলিক পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য করে তুলেছে।
বিমানটির সফল উড়ানকে ইরানের জন্য কেবল একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমান ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে যে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল, সিমোর্গ তার একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিমোর্গ তৈরির খরচ তুলনীয় বিদেশি মডেলের চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম, যা অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আঞ্চলিক রপ্তানির ক্ষেত্রেও একে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন প্রমাণ করে যে ইরানের অ্যারোডাইনামিক, অ্যাভিওনিক্স ও উপাদানবিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন কাঠামো এখন আরও পরিপক্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে।