নামাজ আদায়ের আগে যে বিষয়গুলো মেনে চলা আবশ্যক, তার মধ্যে অন্যতম হলো অজু। ফিকাহবিদরা বলছেন, অজু ভাঙার সাতটি সাধারণ কারণ রয়েছে। কোনো কারণে নামাজের সময় অজু ভেঙে গেলে মুসল্লির করণীয় স্পষ্টভাবে নির্ধারিত।
অজু ভাঙলে করণীয়-
জামাতে নামাজের সময় অজু ভাঙলে:
১) মুসল্লি অন্য কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলে নিরবিচ্ছিন্নভাবে নামাজ ছেড়ে অজু করতে চলে যাবেন।
২) অজু করার পর ফিরে এসে তিনি বাকি নামাজে জামাতের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
৩) যে রাকাত ওই সময়ে ছুটে গেছে, তা পরে মাসবুক হিসেবে পূর্ণ করবেন।
ইমামের অজু ভেঙে গেলে:
১) পেছনে দাঁড়ানো যোগ্য মুসল্লিকে স্থলাভিষিক্ত ইমাম হিসেবে নির্বাচন করতে হবে।
২) স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি নামাজ চালিয়ে যাবেন, ইমামের আদায় করা নামাজ পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই।
ইচ্ছাকৃত অজু ভাঙা:
১) যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অজু ভাঙে, তাহলে নতুন করে ওজু করে নামাজ আদায় করা আবশ্যক।
২) কিছু আলেমের মতে, এমন ক্ষেত্রে আগের নামাজে যুক্ত না হয়ে নতুন নামাজ পড়াই উত্তম।
অজু ভাঙার সন্দেহ হলে:
১) কেউ মনে করে অজু ভেঙেছে, নামাজ ছেড়ে অজু করতে যায়, পরে বুঝতে পারে অজু ভাঙেনি।
২) যদি সে মসজিদে থাকে, তাহলে বাকি নামাজ শেষ করতে পারবেন।
৩) যদি মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়, নতুন নামাজ পড়তে হবে।
শেষ তাশাহুদ বা রুকু/সিজদায় অজু ভাঙলে:
৪) শেষ তাশাহুদের পরে অজু ভাঙলে, অজু করে সালাম ফেরাতে হবে।
৫) যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অজু ভাঙা হয়, নামাজ পূর্ণ হয়, তবে সালাম না ফেরালে গুনাহ হবে।
৬) রুকু বা সিজদায় অজু ভাঙলে, সেই রুকু বা সিজদা থেকে পুনরায় নামাজ শুরু করতে হবে।
(হিদায়া ১/১০৩-১০৮)
নামাজ হলো মুসলিম জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা শুধু ফরজ আদায়ের মধ্য দিয়ে নয়, বরং ওজু, ওয়াজিব ও সুন্নতের পূর্ণতা বজায় রাখার মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়। যদি নামাজের সময় অজু ভাঙে, ফিকাহের নির্দেশনা অনুসারে তা পূরণ করা মুসল্লির জন্য অপরিহার্য। অজু পুনঃস্থাপন, মাসবুক রাকাত পূরণ এবং যথাযথ নিয়মে নামাজ আদায় করলে নামাজ গ্রহণযোগ্য হয় এবং মুসল্লি আল্লাহর নিকট সঠিক ইবাদত প্রদর্শন করতে সক্ষম হন। সুতরাং, অজু ভাঙার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পালন করলে নামাজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত সকলই সঠিকভাবে রক্ষা করা সম্ভব।