ইউজিসির আপত্তিতে ববিতে ২৪ অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন! ১০ কোটি টাকার বাজেট আটক

আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৫ ১০:৩০:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৫ ১০:৩০:৫৩ অপরাহ্ন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৪টি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর আপত্তি তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও প্রশাসনের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি পরিদর্শনে আসা ইউজিসির বাজেট নিরীক্ষা দল মোট ১৭টি বিষয়ে অডিট আপত্তি দেওয়ায় প্রায় ১০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে। এই আপত্তির ছয়টি সরাসরি পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত এবং চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে কেন্দ্র করে। তবে ইউজিসির এই আপত্তিগুলোর মধ্যেই উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ডের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গত ১৯ অক্টোবর থেকে অধ্যাপক পদোন্নতি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয় এবং অধিকাংশ বিভাগের বোর্ড প্রায় সম্পন্ন। শনিবার (১ নভেম্বর) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের বোর্ড অনুষ্ঠিত হলে পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার কথা। এর আগে 'ফ্যাসিস্টের দোসর' হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ইউজিসির নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ২২ অক্টোবর ইউজিসির বাজেট টিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শনে এসে এই ১৭টি অডিট আপত্তি উত্থাপন করে।
 
ইউজিসির অডিট আপত্তির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে – অনুমোদনবিহীনভাবে অনিয়মিত প্রভাষক নিয়োগ, পদ না থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া গ্রহণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি নীতিমালায় অসঙ্গতি এবং অনিয়মিত পর্যায়োন্নয়ন। সবচেয়ে বড় আপত্তিটি আসে অধ্যাপক পদোন্নতি নিয়ে; যেখানে বলা হয়েছে, মোট ২৪টি আপগ্রেডেশনের মধ্যে মাত্র ২টি শূন্যপদ ছাড়া বাকি কোনোটিরই ইউজিসির অনুমোদন ছিল না। এমনকি অনুমোদিত ৯টি পদ থেকেও ৭টি ব্লক করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সুস্পষ্ট নিয়মবহির্ভূত। নিয়ম অনুযায়ী, অবশিষ্ট ২টি শূন্য পদে নিয়োগ উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেওয়া উচিত, অনুমোদন ছাড়া আপগ্রেডেশন দেওয়া নিয়মসিদ্ধ নয়।
এছাড়াও, রেজিস্ট্রার-সংক্রান্ত আপত্তিতে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক পদে থেকেও কেন সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কমিটির সদস্য, তিনি ক্যাম্পাসে আবাসিক কর্মকর্তা হয়েও কেন হলে থাকেন না এবং সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আরেকটি গুরুতর আপত্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, চলতি বছরের ৭ জুলাই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ১০ জন প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬টি পদে ইউজিসির আর্থিক ও প্রশাসনিক সম্মতি ছিল না, এবং বাকি ৪টি পদে অনুমোদন থাকলেও ওই অর্থবছরে নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় নিয়মভঙ্গ করা হয়েছে। এমন অভিযোগও উঠেছে যে, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার লক্ষ্যেই উপাচার্য তড়িঘড়ি করে নতুন ১০টি প্রভাষক পদের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, যা গত বছরের ৬ মার্চ ও ২ জুনের ৫১টি প্রভাষক নিয়োগের ধারাবাহিকতা।
 
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ববির জন্য প্রায় ৬৪ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ থাকলেও অডিট আপত্তির কারণে সংশোধিত বাজেটে তা প্রায় ৫৪ কোটিতে নেমে আসে এবং প্রায় ১০ কোটি টাকা ইউজিসির পক্ষ থেকে আটকে দেওয়া হয়। আটকে দেওয়া বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে – অনুমতি ছাড়া দৈনিক মজুর কর্মচারী ব্যয় (84 লাখ), বিআরটিসি বাস ভাড়া (1 কোটি 72 লাখ), পরিবহন খাতে (2 কোটি 76 লাখ), আনসার নিয়োগ (90 লাখ) এবং আবাসিক ভবন ভাড়া (14 লাখ 50 হাজার)।
ববির অর্থ দপ্তর সূত্র জানায়, ইউজিসির ৩ সদস্যের অডিট টিম ২২ অক্টোবর হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে এবং বাজেট ওয়ার্কিং কমিটি জবাব দিলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। এ বিষয়ে ববির উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আতিকুর রহমান উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা জানতে বলেছেন। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, ইউজিসির নির্দেশ মানতে তারা বাধ্য। তবে লিখিত অডিট আপত্তি এখনো পাননি এবং লিখিত কিছু পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ইউজিসির সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]