জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ভকসওয়াগন (Volkswagen) সম্প্রতি ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (Q3) ১.২৪ বিলিয়ন ডলার নিট লোকসান ঘোষণা করেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক ক্ষতি। এই অপ্রত্যাশিত আর্থিক পতনের প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত বাড়তি শুল্ক এবং সহযোগী ব্র্যান্ড পোর্শের (Porsche) পণ্য কৌশলগত পরিবর্তনের খরচকে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এই নতুন মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কোম্পানিটির বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৫.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।
জার্মানির অটোমোবাইল শিল্পের অন্যতম প্রধান এই কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে এই ব্যাপক লোকসান ইঙ্গিত দেয় যে বিশ্ববাণিজ্যে সুরক্ষাবাদী নীতির প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ভকসওয়াগনের অর্থ ও পরিচালনা প্রধান (CFO) আরনো অ্যান্টলিটজ (Arno Antlitz) নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং পোর্শের বৈদ্যুতিক গাড়ির কৌশলগত পরিবর্তনজনিত বড় অঙ্কের খরচ এই খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য দায়ী।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভকসওয়াগন গোষ্ঠী কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই শুল্কের চাপ একদিকে যেমন তাদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে, তেমনি বিশ্ব বাজারে দামের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও কমিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি এখন নতুন করে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয়ের কঠোর নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দিচ্ছে। এর পাশাপাশি, শুল্কের বোঝা কমাতে সংস্থাটি তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে (supply chain) নতুন করে সমন্বয় আনার পরিকল্পনা করছে।