বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন—আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নতুন নকশা ও বিশেষ ‘লোহার’ রঙের ইউনিফর্ম পরিধান করবেন। আগের পোশাকের তুলনায় এই পরিবর্তন বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব ভাবমূর্তি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে, যার মাধ্যমে জনগণের সাথে পুলিশের সম্পর্ক আরও সুসংহত ও দৃঢ় হবে।
নতুন ইউনিফর্মের পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে পুলিশের দীর্ঘ ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার, যেখানে ইউনিফর্মের পাশাপাশি বাহিনীর প্রশিক্ষণ, নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়াতেও মৌলিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। এ সিদ্ধান্ত চলতি বছরের শুরুতে নেওয়া হয়, যাতে বিভিন্ন বাহিনীর রঙ ও নকশা নির্ধারণের জন্য ১৮ ধরনের ইউনিফর্মের ট্রায়াল নেওয়া হয়। পুলিশের জন্য থাকা ‘আয়রন’ রঙ, র্যাবের জলপাই রঙ এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য সোনালি গম রঙ, বাহিনীগুলোর স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩৫ হাজার সদস্যকে ইতোমধ্যে নতুন পোশাক সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল ইউনিট—জেলা ও মেট্রোপলিটন—নতুন এই পোশাক গ্রহণ করবে। লক্ষ্য, সংশ্লিষ্ট জাতীয় নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যেই প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্যকে নতুন ইউনিফর্মে সজ্জিত করা। তবে মাঠ পর্যায়ে কিছু সদস্য এই গাঢ় রঙের পোশাক গ্রীষ্মের সময় কাজের জন্য অস্বস্তিকর বলে মত প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ রং নির্বাচনে স্বাতন্ত্র্যে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাহিনীর ইউনিফর্ম বদল জনসেবামুখী ও আধুনিক পুলিশিংয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, কিন্তু শুধু পোশাকের পরিবর্তনেই কাঙ্ক্ষিত মানসিক পরিবর্তন আসবে না। মানসিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনস্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতি—এগুলোই হবে মূল পরিবর্তনের চাবিকাঠি। ২০০৪ সালে খাকি বাদ দিয়ে মহানগর ও জেলা পুলিশের পোশাকে একবার বড় পরিবর্তন আসে, এবার আইডেন্টিটি ও জনসংযোগ জোরদারে ‘লৌহার’ রঙের ইউনিফর্মে নতুন পথচলা শুরু করছে বাংলাদেশ পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনের পূর্বে দেশের সকল ইউনিটে পর্যায়ক্রমে নতুন পোশাক সরবরাহ করা হবে।