সুদানের দিকে গোপন অস্ত্রবহন: বসাসো বিমানবন্দর হয়ে বাড়ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অস্ত্র সরবরাহ

আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৫ ১২:২৯:৫২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৫ ১২:২৯:৫২ পূর্বাহ্ন

সোমালিয়ার পুণ্টল্যান্ড রাজ্যের উপকূলীয় শহর বসাসোর আকাশে এখন প্রায় নিয়মিতই কাঁপন তোলে বিশাল আকারের কার্গো বিমানের শব্দ। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মিনিট পরেই বিমানবন্দরের রানওয়েতে ভেসে ওঠে সাধারণ পরিচিত সেই ধরণ—সাদা রঙের আইএল–৭৬ ভারী পরিবহন বিমান। এই বিমানগুলো একটির পর একটি নেমে অল্প সময়ের মধ্যে রহস্যজনকভাবে সামরিক সরঞ্জাম বোঝাই করে রওনা হয়।
 

মাত্র দুই বছর আগেও এমন দৃশ্য স্থানীয়দের কাছে ছিল বিরল। কিন্তু এখন এটি রোজকার ঘটনা। বসাসো বিমানবন্দরের পুণ্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের (PMPF) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদুল্লাহি (ছদ্মনাম) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আইকে জানান, “এই বিমানগুলো নিয়মিতই আসে। নামানো সামরিক মালামাল সঙ্গে সঙ্গে অন্য বিমানে তুলে পাঠানো হয় সুদানের দিকে—বিশেষত আরএসএফ বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায়।”
 

বহু ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য একত্রে ইঙ্গিত করছে—এই অস্ত্র সরবরাহের উৎস সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। আর গন্তব্য হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান, যেখানে সম্প্রতি আরএসএফ বাহিনী উত্তর দারফুরের রাজধানী এল–ফাশার দখল করেছে দীর্ঘ অবরোধের পর। শহরটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
 

প্যাটার্ন অনুযায়ী, বসাসো বিমানবন্দরে অবতরণ করা এই কার্গো বিমানেরা সাধারণত কম সময়ে গোপনে কার্যক্রম সম্পন্ন করে। সর্বজনীন এয়ার ট্রাফিক ডেটা থেকে বোঝা যায়, UAE সচেতনভাবে এসব ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন করে গোপনীয়তা রক্ষা করে। নিরাপত্তা বলয় ঘেরা অবস্থায় সামরিক মালামাল লোড–আনলোডের সময় কোনো বহিরাগতকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। একই সময়ে বসাসো বন্দরের দিকেও আসা পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
 

বছরের পর বছর ধরে আমিরাত পুণ্টল্যান্ডের PMPF বাহিনীকে অর্থায়ন করছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক চালানগুলো তাদের ব্যবহারের জন্য নয়। এর মধ্যে এমনসব ভারী সামরিক সরঞ্জাম আছে যা স্থানীয় বাহিনীর সক্ষমতার বাইরে। মিডলইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, বসাসোর মাধ্যমে পাঠানো এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে চীনা নির্মিত ড্রোনও।
 

বসাসো বন্দরের এক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক জানান, গত দুই বছরে “Hazardous” বা “বিপজ্জনক” চিহ্নিত পাঁচ লক্ষাধিক কনটেইনার বসাসো হয়ে পাঠানো হয়েছে, যেগুলোর কোনো উৎস বা গন্তব্য তথ্য দেওয়া ছিল না। এসব কনটেইনার জাহাজ থেকে নামানোর পর সরাসরি বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অপেক্ষমাণ বিমানে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়াই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্পন্ন হয়, যেখানে ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
 

স্থানীয় সূত্রের ধারণা, এমন উচ্চমাত্রার গোপনীয়তা স্পষ্ট করে যে এই সরঞ্জাম দেশীয় ব্যবহারের নয়, বরং বসাসো আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান অস্ত্র ব্যবসার এক গোপন ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]