বর্জ্যের পাহাড়ে ঢাকা ঢাকা শহর, কিন্তু থমকে ‘বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প’

আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৫ ১১:১২:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৫ ১১:১২:৪৫ অপরাহ্ন

ঢাকা শহরে প্রতিদিন উৎপন্ন হচ্ছে কয়েক হাজার টন বর্জ্য। এই বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ বা জৈবসার তৈরির যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। কোটি টাকার ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ সাড়ে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। এজন্য প্রতিদিন ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্যের প্রয়োজন হলেও বাস্তবে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। তবুও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়নি। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।

দেশে প্রতিদিন শহরাঞ্চলে প্রায় ৪৭ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়, যার মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অংশ প্রায় ৮ হাজার টন। ২০২৩ সালে চীনা কোম্পানি সিএমইসির কাছে ৩০ একর জমি হস্তান্তর করে উত্তর সিটি করপোরেশন প্রকল্পটির কাজ শুরু করলেও সরকার পরিবর্তনের পর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এ বি এম সামসুল আলম জানান, বর্জ্য পোড়ানোর তাপমাত্রা নিয়ে সিএমইসির সঙ্গে চুক্তিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। চুক্তিতে তাপমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কিন্তু ২০২১ সালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী তা হওয়া উচিত ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই ২০০ ডিগ্রির পার্থক্যই এখন মূল বাধা। বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে সার তৈরির প্রকল্পও থেমে আছে। সংস্থার প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার জানান, সার ছাড়াও বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস, কয়লার বিকল্প জ্বালানি ও জৈব সার তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে, যা আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। ওয়েস্ট কনসার্নের পরিচালক ইফতেখার এনায়েতউল্লাহ বলেন, “বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে হলে প্রথমেই জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করতে হবে। বিধিমালার সঠিক প্রয়োগ ঘটাতে পারলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ৭৫ শতাংশ সমস্যাই দূর হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি বা সার উৎপাদন শুরু হলে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতিও অনেকটা কমে আসবে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]