ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ ওঠার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রীসংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাফিসা সামিহা মায়িশা অভিযোগ করেছেন, গত ২৯ অক্টোবর বিকেল তিনটার দিকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগসংলগ্ন রাস্তায় অজ্ঞাতপরিচয়ের এক নারী তাকে উদ্দেশ্য করে থুতু নিক্ষেপ করেন, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং জোরপূর্বক শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। পরে তিনি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিতভাবে জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তার দাবি, অনলাইনে তিনি ভিকটিম ব্লেইমিং ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যেরও শিকার হন।
এই ঘটনার নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘হিজাবফোবিক আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ডাকসু অপরাধীর দ্রুত শনাক্তকরণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, এবং অপরাধী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ হলে স্থায়ী বহিষ্কার বা বহিরাগত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে টহল জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় ৩০ অক্টোবর ঢাবির অপরাজয়ে বাংলার পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রীসংস্থা। সংগঠনের ঢাবি শাখা সভানেত্রী সাবিকুননাহার তামান্না প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, “হিজাব পরার কারণে কেন একজন ছাত্রীকে ‘পাকিস্তানি’ বলা হবে?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি এবং ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা না থাকা উদ্বেগজনক।
সমাবেশ থেকে তিনি প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে ড. এ. কে. এম নুর আলম সিদ্দিকী ও আতিয়া সানজিদা শর্মী সহকারী প্রক্টর হিসেবে রয়েছেন। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।