রাশিয়ার প্রধান দুই তেল কোম্পানি রোজনেফ্ট ও লুকঅয়েলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২২ অক্টোবর) এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়ার শান্তি আলোচনায় অস্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো রাশিয়ার জ্বালানি খাতের মাধ্যমে যুদ্ধের অর্থায়নের সক্ষমতা কমানো এবং ক্রেমলিনকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দেওয়া।
বেসেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনই যুদ্ধবিরতি কার্যকর দেখতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই নিষেধাজ্ঞা আসে এমন এক সময়ে, যখন ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পরিকল্পিত দ্বিতীয় বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার পরদিনই ওয়াশিংটনের এই ঘোষণা আসে।
এর আগে ১৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্যও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়, রোজনেফ্ট ও লুকঅয়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার।
ঘটনাটির আরেকটি প্রেক্ষাপট হলো, রাশিয়ার নতুন পারমাণবিক মহড়া। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ক্রেমলিন একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে মহড়ার অগ্রগতি জানাচ্ছেন। রাশিয়া জানায়, তারা স্থল, সাবমেরিন ও বিমানভিত্তিক লঞ্চার থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যেগুলোর কিছু যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তাদের টু-২২এম৩ বোমারু বিমান বাল্টিক সাগরে মহড়া দিয়েছে, যাকে সম্ভবত ন্যাটোর যুদ্ধবিমান অনুসরণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে চাপ সৃষ্টি করবে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।