গুমের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের দাবি: অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমান আচরণের আহ্বান

আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৫ ০৩:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৫ ০৩:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি শাসনামলে গুমের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন আচরণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত অভিযুক্তদের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, পাশাপাশি বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্তদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
 

গত বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তার হাজিরার পর ভুক্তভোগীরা এসব দাবি জানান। তাদের মতে, আইন অনুযায়ী আটক সেনা কর্মকর্তারা জেলে ‘ডিভিশন’ সুবিধা পেতে পারেন, তবে ‘সাব জেল’ নামে কোনো বৈষম্য বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া অন্যায় হবে।
 

প্রতিক্রিয়া জানানোদের মধ্যে ছিলেন গুমের শিকার ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মারুফ জামান।
 

দীর্ঘ আট বছর গুমের শিকার থাকার পর ফিরে আসা আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, অভিযুক্ত সেনা সদস্যরা সামরিক বাহিনীতে যোগদানের পর র‌্যাবের মতো সংস্থায় গিয়ে এসব অপরাধে জড়ান। তিনি বলেন, এর দায় সামগ্রিকভাবে সেনাবাহিনীর নয়; বরং যারা অপরাধে যুক্ত, তাদেরই কঠোর শাস্তি হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের রাষ্ট্রপ্রধান ও সেনাপ্রধানদের জন্য এটি একটি শিক্ষা হওয়া উচিত—মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় এড়িয়ে কেউ পার পাবে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযুক্তদেরও অধিকার সংরক্ষণ ও সুবিচারের নিশ্চয়তা চান।
 

ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান বলেন, আটক কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেনানিবাসের ভেতর সাবজেলের নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিচার চলাকালে তারা যেন কর্মরত সেনাসদস্য বা অন্য প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে পারে—এ বিষয়েও কঠোর নজরদারি দরকার।
 

তিনি আরও বলেন, “যদি বিচারাধীন অবস্থায় আসামিরা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তাহলে তা হবে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
 

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল চৌধুরী বলেন, যারা বিদেশে পালিয়ে আছেন তাদের দ্রুত ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মারুফ জামান মন্তব্য করেন, “আজকের এই অগ্রগতি দেশের মানুষের চাপের ফল। এখনো অনেক অপরাধী স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই আমরা চাই অভিযুক্তদের যেন কোনো বিশেষ সুবিধা না দেওয়া হয়—যেভাবে আমাদের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছিল, তাদের সেভাবেই রাখতে হবে।”
 

ভুক্তভোগীরা আশা প্রকাশ করেন, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের রক্ষক সেনাবাহিনী আবারও তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে কোনোভাবেই জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]