শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মার ভাঙন গত দুই মাসে ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে তীররক্ষা বাঁধের দুই কিলোমিটার অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। বাঁধ রক্ষার জন্য পাঁচ লাখ ২৪ হাজার জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। এ ঘটনায় অন্তত দেড় শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে, আর নতুন জরিপের ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধ নির্মাণের জন্য ডিপিপি সংশোধন করে নতুন পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে।
জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্লার কাঁদিতে রাস্তাঘাট, হাটবাজার, বসতবাড়িসহ বিভিন্ন নির্মাণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। নদী ভাঙনের কারণে এলাকা এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার মতো দেখাচ্ছে। রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ছড়িয়ে আছে, পাশাপাশি বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেড় শতাধিক পরিবার বাসস্থান হারিয়েছে এবং পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। পৈলান মোল্লার কান্দি ইয়াসিন মাদবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫০ শিক্ষার্থীর পরিবর্তে এখন মাত্র ৬৫ জন উপস্থিত রয়েছে। বিদ্যালয়টি নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এরও দ্রুত ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বর্তমানে জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ৮.৬৭ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ লাখ ২৪ হাজার জিওব্যাগ নদীতে ডাম্পিং সম্পন্ন করেছে, তবে তা তীরে সঠিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি এবং অনেক জিওব্যাগ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। নদীর পাড়ে রাখা কংক্রিটের ব্লকগুলোও ভাঙনের শিকার হয়ে নদীতে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকরী বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ভাঙনের অ ona পরিস্থিতি আরো গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা করছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, নদীর ভাঙনে চিত্র পরিবর্তিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে নতুন সার্ভে অনুযায়ী ডিপিপি সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬০ কোটি টাকা।