রাত গভীর। সময় তখন প্রায় ১২টা ৩০ মিনিট। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে ইলেকট্রনিক মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা চলছিল। ঠিক সেই সময় কয়েকশ শিক্ষার্থী হঠাৎ অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। মুহূর্তেই সেখানে আরও শিক্ষার্থী যোগ দিলে পুরো অনুষদ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিকেল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ভোট গণনা শুরু হয় বিকেল পাঁচটা থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনে ধাপে ধাপে গণনা চলে। প্রার্থীদের এজেন্ট ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ভোট গণনা করায় প্রক্রিয়াটি ধীরগতি হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাত আড়াইটার দিকে ফলাফল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে সন্ধ্যায় শিবির-সমর্থিত প্যানেল সংবাদ সম্মেলনে ভোট অনিয়মের অভিযোগ তোলে। পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল প্যানেল শিবির ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইটে বিএনপি ও জামায়াতের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।
এদিকে রাত আটটার দিকে বিবিএ অনুষদের সিঁড়িতে ইসলামী ও দেশাত্মবোধক গান দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা। পরে ছাত্রদল-সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীরাও সেখানে অবস্থান নেয় তবে প্রথমে গান বাজায়নি। রাত এগারোটার দিকে উভয় পক্ষই সমান্তরালে গান কর্মসূচি পালন করে। মাঝেমধ্যে তারা নিজেদের সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দেয়, তবে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অডিটোরিয়ামে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা ভারতের প্রভাবের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে, যা দ্রুত পুরো অনুষদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে চাকসু ভবনের দিকে যাত্রা করেছিল।