ভারত রাশিয়ার তৈরি দীর্ঘপাল্লার S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে কেন্দ্র করে কৌশলগত সিদ্ধান্তের ধারে–একদিকে মস্কোর সঙ্গে ২০১৮ সালের চুক্তির ভিত্তিতে দীর্ঘকালীন স্থাপন চলছে, অন্যদিকে নতুন খবরের শিরোনামে এসেছে—অপারেশন “সিন্দুর” চলাকালে S-400 দিয়ে এক উচ্চমূল্যের পাকিস্তানি বিমানকে প্রায় ৩০০ কিমি দূরত্বে ধ্বংস করা হয়েছে বলে ভারতের দাবি, এবং এখন ভারত অতিরিক্ত পাঁচটি S-400 ইউনিট কেনার পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করছে।
রাশিয়ার S-400 কেন বিশেষ: সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, S-400 একটি বহুলব্যাপ্তিযুক্ত এবং বহুপর্যায়ের রাডার-নির্ভর দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—এটির রাডার সিস্টেম ৬০০ কিমি পর্যন্ত শনাক্তকরণ করতে পারে এবং আলোচিত কনফিগারেশনে ৪০০ কিমি পর্যায়ে টার্গেটকে আঘাত করার ক্ষমতা রয়েছে; একই সময়ে এটি ৩৬০ ডিগ্রি কভারেজ ও বহু-টার্গেট ট্র্যাকিং সক্ষম করে। এই প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যই সেনাশক্তিকে আকাশে লম্বা ‘প্রতিরোধ শৃঙ্খল’ গঠনে সহায়তা করে।
২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তি ছিল প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলার, যার আওতায় মোট পাঁচটি ইউনিট কেনা হয়—এর মধ্যে তিনটির মোতায়েন নিয়ে নানা পর্যায়ের ঘোষণা এসেছে এবং বাকি ইউনিটগুলোর ডেলিভারি ২০২৬–২০২৭ সময়সীমায় সম্পন্ন হওয়ার কথা। এখন ভারতের উদ্দেশ্য আরও পাঁচটি ইউনিট কেনার পরামর্শ বা আলোচনা, যা দেশের উপকূলীয় ও সীমান্ত নিরাপত্তা শূন্যস্থানগুলো ঢেকে দিতে পারে বলে প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
দাবি ও দ্বিমত: অপারেশন সিন্দুরের সময়কালে “৩০০ কিমি’র কিল” সম্পর্কিত ভারত কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিকে রাষ্ট্রীয় সূত্র ও সামরিক কর্মকর্তা গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করেছেন; অন্যদিকে পরিবৃত্তিক প্রতিবেদন ও প্রতিপক্ষের দাবি-প্রত্যাখ্যানও একই সঙ্গে এসেছে—অর্থাৎ এই ঘটনার বিবরণ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিতর্কের বিষয় এবং স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের দাবি রয়ে গেছে। সশস্ত্র প্রতিযোগিতায় এমন রিটার্ন-অ্যান্ড-কাউন্টার-দাবি প্রায়ই কূটনৈতিক-তথ্যগত যুদ্ধেরও অংশ হয়ে ওঠে।
S-400 বা অনুরূপ লং-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের স্থাপন সীমান্ত-উপকূলীয় অঞ্চলে নৌকৌশল ও বায়ুসেনার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে—এতে প্রতিবেশী দেশের গতি-অগ্রগতিতে সমন্বয়, নজরদারি বাড়ানো এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি/প্রতিবৃতি পরিকল্পনাও পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে উপসাগর ও সীমান্তরক্ষায় গোছানো প্রতিরক্ষা-পরিকল্পনার পুনর্মূল্যায়ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ: এই ধরণের উচ্চ-ক্ষমতার শক্তি অর্জন কেবল সামরিক ক্ষমতা নয়, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও বিস্তার আনে—বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রতিক্রিয়া, অস্ত্র বিক্রির স্বীকৃতি ও রপ্তানি-নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলোও এখন নজরে থাকবে। ভারত-পাকিস্তান প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিগত নজিরগুলো প্রকাশ্যে আসলে উভয়পক্ষের কাহিনি ও দাবি যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো মুশকিল।