কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আফরোজা আক্তার ডিউকে জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রোববার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা আক্তার ডিউ ২০১২ সালে ‘দারুল ইহসান’ নামে বর্তমানে অবৈধ ঘোষিত এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদর্শন করে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। দীর্ঘ সময় ধরে ওই ভুয়া সনদে কর্মরত থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিষয়টি আড়ালেই ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান, এরপর ঘটনাটি পুনরায় আলোচনায় আসে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুস সবুর লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক এহতেশাম রেজা তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী দারুল ইহসান থেকে দেওয়া তার অনার্স (সিরিয়াল ০৪৬৩৭) ও মাস্টার্স (সিরিয়াল ০০৩৯৮১) সনদ দুইটিই জাল বলে নিশ্চিত হয়।
প্রমাণের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ডিউকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি নিয়োগকাল থেকে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “ভুয়া সার্টিফিকেটে চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত সুবিধার টাকা ফেরত না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ডিউ এবং তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব—যিনি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন—দীর্ঘ সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ আত্মসাত ও অনিয়মে জড়িত ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তারা নানা সুবিধা অর্জন করেন। সরকারি তহবিল আত্মসাত, ভুয়া প্রকল্প চালু ও একাধিক মামলার আসামি হিসেবেও তাদের নাম এসেছে। সরকারের পতনের পর থেকেই তারা পলাতক বলে জানা গেছে।
আফরোজা আক্তার ডিউ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সোহরাব আলী এবং মা শাহানারা বেগম দুজনই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ছিলেন। ১৯৭৬ সালে জন্ম নেওয়া ডিউ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত সংগঠনে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৬ সালে জয়ীতা পুরস্কারও লাভ করেন। তবে জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ও প্রভাবের অপব্যবহার তার দীর্ঘদিনের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।