গাজার আঞ্চলিক জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে ত্রাণবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার শেষ জাহাজ ‘ম্যারিনেট’। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী ইয়টটিকে আটক করতে পারেনি।
লাইভ ভিডিও ফিডে দেখা গেছে, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে এগিয়ে চলেছে জাহাজটি। ফ্লোটিলার জিও ট্র্যাকার অনুযায়ী, ‘ম্যারিনেট’ বর্তমানে গাজার আঞ্চলিক জলসীমা থেকে প্রায় ৪৮ নটিক্যাল মাইল (৮৮ কিলোমিটার) পশ্চিমে অবস্থান করছে। পোলিশ পতাকার অধীনে চলা জাহাজটিতে ছয়জন আরোহী রয়েছেন।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন এক ভিডিও বার্তায় জানান, যাত্রাপথে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিলেও তা এখন সমাধান করা হয়েছে। ফ্লোটিলা আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি স্টারলিংক সংযোগের মাধ্যমে এখনও যোগাযোগে রয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে ইসরাইলি বাহিনী ফ্লোটিলার অন্য নৌযানগুলোতে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক যাত্রীকে আটক করে। তাদের সবাইকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের কেটজিওট কারাগারে রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও আছেন। আটক হওয়ার আগে করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, “ইসরাইলি বাহিনী আমাকে জোরপূর্বক আটক করেছে। আমাদের উদ্যোগ ছিল মানবিক, অহিংস এবং আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে। দয়া করে আমার দেশের সরকারকে বলুন যেন আমাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায়।”
জর্ডান-ভিত্তিক ‘রয়া নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রার শুরুতেই গ্রেটা বলেছিলেন, “আমি ইসরায়েলকে ভয় পাই না। আমি ভয় পাই এমন এক পৃথিবীকে, যেখানে মানবতার বোধশক্তি হারিয়ে গেছে।”
অন্যদিকে, ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ফ্লোটিলা যাত্রীরা সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করছে এবং বৈধ অবরোধ ভঙ্গ করছে। আটক ব্যক্তিদের ইউরোপে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়। তেল আবিবের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কুয়েতসহ একাধিক দেশ। তবে ইতালি প্রশাসন বলছে, জাহাজভর্তি এ ত্রাণ গাজাবাসীর জন্য কার্যকর কোনো প্রভাব ফেলবে না।