ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার পর নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ শুরু হয়। এতে ভিপি পদে শিবির সমর্থিত সাদিক কায়েম, জিএস পদে এস এম ফরহাদ এবং এজিএস পদে মহিউদ্দীন খান নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, ভিপি পদে সাদিক কায়েম সর্বাধিক ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম পান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী আব্দুল কাদের ৬৬৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন ১ হাজার ৮১৫ ভোট পান।
জিএস পদে এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ তানভীর বারী হামিম ৫ হাজার ২৮৩ ভোট, আবু বাকের মজুমদার ২ হাজার ১৩১ এবং বাম সমর্থিত মেঘমল্লার বসু ৪ হাজার ৬৪৫ ভোট পান। অন্যদিকে এজিএস পদে মহিউদ্দীন খান ১১ হাজার ৭৭২ ভোট পান, আর ছাত্রদল সমর্থিত তানভীর আল হাদী মায়েদ পান ৫ হাজার ৬৪ ভোট।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে হলে হলে ফল ঘোষণা শুরু হয়, যা শেষ হয় বুধবার সকাল ৬টার দিকে ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের ফল প্রকাশের মাধ্যমে। প্রতিটি হলে প্রার্থীদের ভোট সংখ্যা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অমর একুশে হলে সাদিক কায়েম ৬৪৪ ভোট এবং আবিদ ১৪১ ভোট পান। সুফিয়া কামাল হলে সাদিক কায়েম ১ হাজার ২৭০ ও আবিদ ৪২৩ ভোট পান। অন্যদিকে জগন্নাথ হলে আবিদ ১ হাজার ২৭৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকেন, যেখানে সাদিক কায়েম পান মাত্র ১০ ভোট।
বিভিন্ন হলে ঘোষিত ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, অধিকাংশ হলে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকলেও কয়েকটি হলে ছাত্রদল ও বাম সমর্থিত প্রার্থীরা প্রভাব বিস্তার করেছেন।
এই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও ফলাফলকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।