গাজায় দীর্ঘ ২৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী নানা ধরণের বিতর্কিত ও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিককালে এ যুদ্ধে যোগ হয়েছে নতুন একটি ভয়াবহ প্রযুক্তি—বোমা ফেলা রোবট। পুরনো সাঁজোয়া যানকে রূপান্তরিত করে তৈরি এসব রোবটে প্রায় পাঁচ টন বিস্ফোরক ভরে দূরবর্তী আবাসিক এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রোবটগুলো কখনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে, কখনও ড্রোন নিয়ন্ত্রণে বিস্ফোরিত হয় এবং প্রতিটি বিস্ফোরণে প্রায় ৩০০ বর্গমিটার এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়।
যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েলি সেনারা এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও নির্দিষ্ট বোমা ব্যবহার করত। তবে স্মার্ট অস্ত্রের মজুদ কমে আসায় তারা তুলনামূলকভাবে সস্তা ও ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরক রোবট ব্যবহার শুরু করে। সামরিক বিশেষজ্ঞ ওয়াসেফ এরাকাত মনে করেন, এটি মূলত ‘পোড়া মাটি নীতি’-র অংশ, যার লক্ষ্য ভয় সৃষ্টি করে জনবসতি খালি করা। শুধুমাত্র দক্ষিণ গাজার জাইতুন এলাকায় ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এই রোবটের হামলায় ১,৫০০-এরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
এরাকাতের মতে, এই রোবট দুই ধরনের—বড় আকারের ট্র্যাকড রোবট যা হাঁটা বোমার মতো কাজ করে এবং ছোট আকারের রোবট যা সুড়ঙ্গ ও সরু গলিতে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করে বাড়ির ওপর বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা এসব রোবটকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ, এগুলো সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্য আলাদা করে না এবং সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি ডেকে আনে। এতে ভয় দেখিয়ে মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
সামরিক গবেষক রামি আবু জুবাইদাহ জানিয়েছেন, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য তিনটি—নিজস্ব সৈন্যদের হতাহতের ঝুঁকি কমানো, সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা স্থাপনা ধ্বংস করা এবং ব্যাপক ধ্বংসের মাধ্যমে জনগণকে মানসিকভাবে দুর্বল করা। এসব রোবট প্রথম ব্যবহার করা হয় ২০২৪ সালের মে মাসে জাবালিয়ায়। পরবর্তীতে এগুলো গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে এবং হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের কাছেও ব্যবহৃত হয়েছে।
বিস্ফোরক রোবট ও ড্রোনের ব্যবহার গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের ভয়াবহতা ও মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।