
বাংলাদেশে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রণীত নতুন খসড়া আইনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি; ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিষদের ৪০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, খসড়া অধ্যাদেশে গুমকে চলমান অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গোপন আটক কেন্দ্র ব্যবহারের মতো কার্যক্রমকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত বিবেচনা করা হয়েছে। অধ্যাদেশ কার্যকর হলে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষা, প্রতিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, আজকের অনুমোদন নীতিগত মাত্র; চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।