
ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নিয়ন্ত্রিত চ্যাটবট ‘গ্রোক’ অনুমতি ছাড়াই প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ করেছে। গুগলে সহজ সার্চেই এসব চ্যাট সামনে চলে আসছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা ঘটনাটিকে “গোপনীয়তার বড় ধরনের বিপর্যয়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই-চ্যাটবট বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে মূলত তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার নিশ্চয়তার কারণে। কিন্তু গ্রোকের এই ডেটা ফাঁস সেই আস্থায় বড় ধাক্কা দিলো। প্রকাশিত কথোপকথনে সাধারণ তথ্য জিজ্ঞাসা থেকে শুরু করে ফেন্টানিল ও বোমা তৈরির উপায়, ম্যালওয়্যার কোডিং, এমনকি মাস্ককে হত্যার পরিকল্পনার মতো গুরুতর বিষয়ও উঠে এসেছে।
ফোর্বসের তথ্যমতে, ফাঁস হওয়া কথোপকথনের মধ্যে রয়েছে নিরাপদ পাসওয়ার্ড তৈরির পরামর্শ, স্বাস্থ্য ও ডায়েট পরিকল্পনা, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশ্নসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য। আবার অনেকে চ্যাটবটের সীমা যাচাই করতে মাদক তৈরির মতো ঝুঁকিপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন।
এই তথ্য প্রকাশের পেছনে মূল কারণ গ্রোকের “শেয়ার বাটন” ফিচার। ওপেনএআইয়ের দাবি, ব্যবহারকারী চাইলে কেবল তার অনুমতিতেই কথোপকথন শেয়ার করা যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ওই বাটনে ক্লিক করলেই পুরো চ্যাট গুগলে উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
এর আগে মেটার এআই চ্যাটবটের কথোপকথনও গুগলের ডিসকভার পেজে চলে আসায় প্রতিষ্ঠানটি সমালোচনার মুখে পড়েছিল। নতুন করে গ্রোকের এই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী শঙ্কা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একবার তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ হলে তা স্থায়ীভাবে থেকে যায়, যা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার জন্য বড় হুমকি।