বাম্পার ফলনে সোনালি আঁশে নতুন প্রাণ, কৃষকের মুখে হাসি

আপলোড সময় : ২৭-০৮-২০২৫ ০১:০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৮-২০২৫ ০১:০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
বছরের পর বছর ধরে হারাতে বসা সোনালি আঁশ পাট এ মৌসুমে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার তোষা জাতের হাইব্রিড পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গ্রামে গ্রামে চলছে পাট কাটার পর শুকানো, ধোয়া ও পঁচানোর কাজ। নদী-খাল, বিল-ঝিলে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের কৃষকেরা।
 
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ বছর বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ায় পাট জাগ দিতে পানির সংকট হয়নি। পর্যাপ্ত পানিতে পঁচানোয় পাটের রং দারুণ হয়েছে, ফলে বাজারে ভালো দামে বিক্রির আশা করছেন চাষিরা। মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ও তদারকি কৃষকদের ফলন বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
 
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সদর, শৈলকূপা, কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও হরিণাকুণ্ডুসহ বিভিন্ন উপজেলায় রাস্তার ধারে বাঁশের আড় তৈরি করে পাট শুকানো হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে বৃষ্টির পানি কম থাকায় পাট জাগে সমস্যা হতো এবং রংও খারাপ আসত। তবে এবার পানির প্রাচুর্য থাকায় পাটের প্রকৃত সোনালি রং ফিরে এসেছে।
 
শৈলকূপার ফুলহরি গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, “গত বছর খাল-বিলে পানি কম থাকায় বদ্ধ পুকুরে পাট জাগ দিয়েছিলাম। তখন রং খারাপ হয়েছিল। এবার প্রচুর পানি থাকায় পাটের রং খুব সুন্দর হয়েছে।” হরিণাকুণ্ডুর কৃষক আব্দুল বারেক জানান, “ফলন এবার ভালো হয়েছে। লম্বায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও মান ও রং দারুণ, ফলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।”
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম জমিতে হলেও মোট ২০ হাজার ২২৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এতে প্রায় ৫২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পাট উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। কৃষকেরা মূলত জেআরও ৫২৪, বিজেআর আই ও তোষা-৮ জাতের পাট চাষ করেছেন।
 
ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারগুলোতে পাটের বেচাকেনা জমে উঠেছে। শৈলকূপার ভাটই বাজারসহ বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ পাট গড়ে ৩৫০০ থেকে ৩৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে এ দামে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা ওঠানামা করছে। ব্যবসায়ীরাও জানাচ্ছেন, মান ভালো হওয়ায় তারা আগের চেয়ে বেশি দামে পাট কিনছেন।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্টি চন্দ্র রায় বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও পানির কারণে এবার পাটের মান অনেক উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফলন ও দাম পাচ্ছেন।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]