
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে অন্তত চারবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই মোদি এই কলগুলো অগ্রাহ্য করেছেন বলে জনিয়েছে জার্মানির প্রভাবশালী দৈনিক ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালজেমেইন জেইটাং (এফএজেড)। এই ঘটনার পেছনে মোদির ‘রাগের গভীরতা ও সাবধানতার’ বিষয়টি প্রকাশ করেছে প্রতিবেদনে।
এফএজেডের তথ্যমতে, এই দূরত্ব এমন এক সময়ে বিকশিত হয়েছে, যখন মার্কিন প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছে, যা ব্রাজিলের পর সর্বোচ্চ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক এখন সংকটাপন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ‘বাণিজ্য উদ্বৃত্তে থাকা দেশ’ হিসেবে বারংবার উপস্থাপন করেছে। তদুপরি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ওয়াশিংটন ভারতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই অবস্থানগুলি মোদির অনিচ্ছার পেছনে এক গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
থরস্টেন বেনার, গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) লিখেছেন, “এফএজেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বেশ কয়েকবার মোদিকে ফোন করেছিলেন কিন্তু মোদি তা প্রত্যাখ্যাত করেছেন।”
সর্বশেষ মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল গত ১৭ জুন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই সংলাপ প্রায় ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়। ওই সময় কানাডায় অনুষ্ঠিত ছিল জি-৭ সম্মেলন, যেখানে তারা বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছিল, তবে ট্রাম্প তার আগেই বিদায় নেন। ওই ফোনালাপে ট্রাম্প পহেলগাঁওয়ে ২২ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলার জন্য শোক প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
মার্কিন-ভারত সম্পর্কের এই টানাপোড়েন খুবই সংবেদনশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যত নির্ভর করবে বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতার ওপর এবং দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়ার গভীরতার ওপর।