
আসন্ন শীতে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার আশঙ্কায় পড়েছে জার্মানি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির গ্যাস মজুত ছিল মাত্র ৬৭ শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বিরোধী দল গ্রিন পার্টির নেতা মাইকেল কেলনার এ পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডিকে বলেন, “আমি আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাই না, তবে যদি শীত অতিমাত্রায় কঠোর হয়, তবে সরবরাহ ব্যবস্থা টেকসই থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।”
জ্বালানিনিয়ন্ত্রক সংস্থা বুন্দেসনেটজ এজেন্টুরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২ সালের একই সময়ে জার্মানির গ্যাস মজুত ছিল ৭৫ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৯০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৯২ শতাংশ। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। ফ্রান্স ও পোল্যান্ড প্রায় ৮০ শতাংশ মজুত করেছে, অস্ট্রিয়ার মজুত ৭৭ শতাংশ আর বেলজিয়ামের ৯২ শতাংশ।
তবে সরকার এ পরিস্থিতিকে তীব্র সংকট হিসেবে দেখছে না। অর্থনীতি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে চারটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু রয়েছে, যা সারা বছর ধরে নমনীয়ভাবে গ্যাস আমদানির সুযোগ দিচ্ছে। ফলে মজুতের ওপর আগের মতো নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে না।
উল্লেখযোগ্য যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে জার্মানির মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের ৩৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। যুদ্ধ এবং নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে হামলার পর দেশটি ধীরে ধীরে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনে। বর্তমানে জার্মানি মূলত নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম থেকে গ্যাস পাচ্ছে। এসব বিকল্প উৎস কার্যকর হলেও, খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি।